তুলসী পাতা ও তুলসি বীজের উপকারিতা- তুলসি পাতা ও বীজের হাজারও গুন
তুলসি পাতা ও তুলসি বীজের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা জানতে পারলাম প্রকৃতির এক মহাঔষুধ হলো তুলসি পাতা ও তুলসি বীজ। তুলসী পাতা ও বীজের হাজারো গুন, যার গুনের বর্ননা দিয়ে শেষ করা যাবে না।আপনি যদি সর্দি- কাশি,কিডনি,লিভার,মানসিকচাপ,পেটের গ্যাস,কফ, হজমের সমস্যা,গলা ব্যাথা ইত্যাদি রোগে ভূগেন তাহলে আমি এমন এক ঘোরয়া চিকিৎসার কথা বলব যা আপনি এর আগে কখনো কল্পনাও করেননি। তুলসি পাতাকে মায়ের ঔষুধ বলা হয়।তুলসি পাতার ব্যবহার বৈজ্ঞানিকভাবে চিকিৎসা শাস্ত্রে স্বীকৃত।
তুলসি পাতায় অ্যান্টিওক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান থাকার জন্য দেহের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থাকে শক্তিশালী করে।তুলসি বীজে একটি গুরুত্বপূণ খ্যাদ উপাদান তবে তুলসি বীজ খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও কি পরিমান খাবেন তা জানা জরুরি।নিচে তুলসি পাতা এবং তুলসি বীজ খাবার নিয়ম আলোচনা করা হল-
পোষ্ট সূচী পত্র ঃ তুলসি পাতা ও তুলসি বীজের উপকারিতা-
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ
- তুলসি বীজের উপকারিতা ও অপকারিতা
- সর্দি-কাশি উপকারিঃ
- রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রন করেঃ
- মানসিক চাপ কমায়ঃ
- ত্বকের জন্য খুবই উপকারিঃ
- তুলসি পাতা কিডনির জন্য খুবই উপকারিঃ
- তুলসি পাতা হজম শক্তি বাড়ায়ঃ
- তুলসি পাতা হার্টের সুরক্ষা বাড়ায়ঃ
- অ্যান্টি- ইনফ্লেমেটরি( প্রদাহনাশক)ঃ
- শ্বাসযন্ত্র পরিস্কার করেঃ
- শেষ কথাঃ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
তুলসি পাতার রস প্রাকৃতিক ভাবে শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খুবি গুরুত্ব পূর্ন ভুমিকা পালন করে।তুলসি শুধুমাত্র একটি ভেষজ উদ্ভিদ ঔষুধ নয়।এর পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল, ইউজেনল ,সিট্রোনেলন উপাদান যা শরিরকে ভেতর থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। শরীরে ব্যাক্টরিয়া বৃদ্ধি হলে তা কমাতে সাহায্য করে ফলে সর্দি- কাশি অ্যাজমার মতো সমস্যা দূর করতে তুলসি পাতা অত্যান্ত কার্যকারি ভুমিকা পালন করে।
আবার তুলসি পাতা শরীরে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ কমায়।তুলসি প্রাকৃতিক অ্যাডাপ্টোজেন হিসাবে কাজ করে,ফলে মানসিক চাপ কমায় এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই। তুলসি পাতায় প্রাকৃতিক অ্যান্টিভাইরাল উপাদান ভাইরাজনিত রুগির শরিরকে আর শক্তিশালী করে।ঠিক একই ভাবে এর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল প্রভাব বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করতে আমাদের সাহায্য করে।
তুলসি বীজের উপকারিতা
তুলসি বীজের উপকারিকাতা বিষয়ে গবেষনা করতে গিয়ে ভারতে ন্যাশনাল লাইব্রেরী অব মেডিসিন বলছেন,তুলসি বীজে প্রোটিন থেকে শুরু করে ওমেগা থ্রী ফ্যাটি অ্যাসিড,ডায়েটরি ফাইবার,মিনারেলস,ফ্ল্যাভানয়েডস ও ফলিফেনলস ইত্যাদি উপাদান রয়েছে তুলসি বীজে। এইজন্য তুলসি বীজ বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত করতে পারে।
তুলসি গাছের বীজ বা পাতা শুধু উপকারি নয়, সম্পূর্ন গাছেই রয়েছে খ্যাদের গুরুত্ব পূর্ন উপদান। তবে মজার ব্যাপর হলো এই গাছ খুজতে অনেক দূরে যাওয়ার দরকার নায়। আপনি বাড়ির আশে পশেই এই গাছ সহজেই পেয়ে যাবেন। তুলসি গাছের বীজ বিভিন্ন রোগের সাথে লড়াই করতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন গবেষনা প্রমানিত হয়েছে তুলসি বীজের রয়েছে অনেক উপকারিতা। তবে আপনি ভাবছেন তুলসি বীজ কিভাবে খেলে উপকার পাওয়া যায়। আমি তুলসি বীজ খাবার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে নিচে আলোচনা করছি- তুলসি বীজ পানিতে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখবেন,এর পর দেখবেন তুলসি বীজ জেলির মত হয়ে গেছে।এই তুলসি জেলি দৈনিক ২ চামুচ করে খাবেন।
তুলসি বীজের অপকারিতা-
অতিরিক্ত কোন জিনিষই ভাল না।তুলসি বীজেরকছু অপকারিতা আছে।তুলসি অতিরিক্ত খেলে পেট ফাপা বা গ্যাসের সমস্যা হয়।গর্ভবতী মহিলারা তুলসি বীজ খেতে চাইলে ডাক্তারের অনুমতির নেয়ার প্রয়োজন।আবার যারা ডায়াবেটিস ওষুধ সেবন করে তাদেরকে ডাক্তারের অনুমতি নিতে হবে।ছোট শিশুদের তুলসি বীজ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা থাকা প্রয়োজন কেননা শিশুদের গলায় আটকে যাবার সম্ভবনা থাকে।
সর্দি-কাশি উপকারি
তুলসি পাতার রস সর্দি- কশি উপকারি হিসাবে পরিচিত এক প্রাকৃতিক ভেষজ। এর রস সর্দি কাশি কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে।অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল থাকার জন্য এর প্রদাহ কমায়।তুলসি পাতার রস খাওয়ার পর এর রস কফ কে পাতলা করতে সাহায্য করে ফলে সর্দি-কাশি সহজে হ্রাস পায়।সর্দি কাশি হলে তুলসি পাতা যেভাবে কাজ করে-
তুলসি ,আদা,মধুর মিশ্রন-
৭/৮ টি তুলসি পাতা,হাফ চামচ কুচানো আদা,১ কাপ পানি একসাথে ফুটিয়ে অর্ধেক করে নামিয়ে নিন।হালকা গরম অবস্থায় ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন।ইহার ফলে সর্দি, গলা ব্যাথা,কাশি কমতে সাহায্য করে।
তুলসি চা
তুলসি চা খেতে চাইলে প্রথমে চুলাতে পানি দিন, পানি ফুটে উঠলে ৬/৭টি তুলসি পাতা পানির ভিতর ছেড়ে দিন , ২/৩ মিনিট পর পানি নামিয়ে ছেঁকে নিন,আপনি যদি মনে করেন,এর সাথে, লেবুর রস বা মধুর মিশ্রন দেব তাহলে আর ভাল হয়। ইহার ফলে - নাক বন্ধ,কাশি,ক্লান্তি কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রন করে
তুলসি পাতা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রন করে। ইহাতে বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল থাকায় দেহের কোষগুলোতে গ্লুকোজ প্রবেশ সহজ হয় ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়।তুলসি পাতার রস খেলে লিভারে গ্লুকোজ উৎপাদন কমায় ইহার ফলে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ তৈরী হয় না। তুলসি পাতার রস খেলে প্রদাহ কমিয়ে কোষকে ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীল রাখে।
তুলসি পাতা খেলে খাবারের পর গ্লুকোজ শোষন কমায়।লিভার থেকে গুলুকোজ নিঃসরন করে।ডায়াবেটিস রোগীদের শরিরে লুকানো প্রদাহ থাকে যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। তুলসি পাতা কিভাবে খাবেন-
১কাপ গরম পানিতে ৬/৭টি তুলসি পাতা ৫ মিনিট ধরিয়ে ফুটিয়ে চায়ের মতো খাবেন।তুলসি পাতা শুকিয়ে পাউডার করে আধা চামচ গরম পানি দিয়ে খালি পেটে খাবেন।তবে তুলসি পাতা কত দিন ধরে খাবেন - ২/৩ সপ্তাহ খেলে রক্তে সুগারের স্তর পরিবর্তন হাতে পারে।তবে ডায়াবেটিকস রোগীরা ওষুধ সবনের সাথে তুলসি পাতা রক্তে সুগার কমিয়ে দিতে পারে এই জন্য নিয়মত সুগার চেক করে প্রয়োজন।সঠিক পরিমানে ও সীমিত পারমানে খেলে তুলেসি পাতা ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য ভাল ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমার ধারনা।
মানসিক চাপ কমায়
ত্বকের জন্য খুবই উপকারি
- এক চামুচ তুলসি পাতার রস মধু মিশিয়ে মুখে লাগান
- ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন এই প্যাক ব্রন ও ত্বকের জন্য উপকারি
- তাজা তুলসি পাতা ভাল ভাবে সিদ্ধ করে পানি ছেঁকে নিন
- ঠান্ডা হিলে গোলাপ জল মিশিয়ে টোনার হিসবে ব্যবহার করুন ইহাতে পোরস টাইট ও সতেজ থাকে।
তুলসি পাতা কিডনির জন্য খুবই উপকারি
- সকালে খালি পেটে ৩/৪ টা তুলসি পাতা চিবিয়ে খাবেন
- ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে চায়ের মতো করে খেতে পারেন
- তুলসি কিডনির স্টোনের জন্য উপকারি
- সকালে ৪/৫টি পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন
- তুলসি পাতা দিয়ে গরম পানি চায়ের মত খেতে পারেন
- খাবারের পর তুলসি পাতা - মধুর মিশ্রণ খেলে হজম শক্তি বাড়ায়
তুরক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে তুলসি পাতা
- ৪/৫টি তুলসি পাতা চিবিয়ে খাওয়া
- তুলসি চা
- তুলসি পাতার রস (১-২)চা চামচ
- খাবার বা স্যুপে তুলসি ব্যাবহার করা যায়।
শ্বাসযন্ত্র পরিস্কার করে
- তুলসি চা ৫/৬টি তুলসি পাতা পানিতে ফুটিয়ে খাওয়া যায়।
- ২/৩ টি পাতা চাবিয়ে খাওয়া যায়
- কাশিতে তুলসি পাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া যায়


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url