জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিবাহ কবে হবে


     জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিবাহ কবে হবে । বিয়েমানব জাতির জীবনে একটি গুরুত্ব পূর্ন অধ্যয় ।ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী জন্ম তারিখ দেখে বিবাহ হয় না ,যে কোন দিন যে কোন সময় মুসলিম সমাজে বিবাহ হতে কোন বাধা নাই ।

তবে হিন্দু সমাজে জন্ম তারিখ ,পূঞ্জিকা দেখে শুভ দিন অনুসরন করে বিবাহের দিন তারিখ নির্ধারন করা হয় ।তবে এটা একটি কুসংস্কার । পৃথিবীতে যত মানবজাতি আছে প্রতেকটি জাতি নিজ নিজ ধর্ম অনুসরন বিবাহের দিন নির্ধারন করে থাকে

আরও পড়ুনঃ

সূচী পত্র--জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিবাহ কবে হবে


বিবাহ কি ?

বিবাহ হলো যে কোন ধর্মের নারী ও পুরুষের মধে একটি ধর্মিয় ,সামাজিক ও আইনগত চুক্তি । এটা এমন ধর্মীয় বন্ধন যার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি ভালবসা ,দায়ত্বিবোধ ,একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও সহাবস্থান করে থাকে । বিয়ে মানব জাতির জীবনে একটি পারিবারিক কাঠামো, যার মাধ্যমে সন্তান উৎপাদন ও লালন পালন করে থাকে ।
সারসংক্ষেপে আমরা বলতে পারি বিবাহ হলো নারী ও পুরুষ এক সাথে জীবন যাপন এবং একে অপরের জীবনের দায়িত্ব ভার ভাগ করে নেওয়া । বিয়ে ছাড়া পরিবার গঠিত হয় না ।কেননা বিয়ের মাধ্যমে সন্তান উৎপাদন হয়  এবং একটি সুন্দর পরিবার গড়ে উঠেতে সাহায্য করে বিবাহের মাধ্যমে ।



বিবাহের প্রয়োজনীয়তা আছে কি

বিবাহের প্রয়োজনীয়তা মানুষের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে।তবে এক জন মানুষের পরিবার,মানসিকতা ও ব্যাতক্তিগত জীবনের নানান দিক থেকে বিবাহের গুরু্ত্ব ব্যাখা করা যায়।নিচে বীবাহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা করা হল-
বিশ্বে প্রায় সব ধর্মের বিবাহকে একটি পবিত্র সম্পর্ক হিসাবে বিবেচনা করে থাকে,কেননা-বিবাহ অনৈতিক সম্পর্ক থেকে দূরে রাখে,দায়িত্ববোধ,কর্তববোধ,মানসিক শুদ্ধতা ও নৈতিকতা বজায় থাকে।
আবার প্রতিটি মানুষের সঙ্গীর প্রয়োজন কেননা মানুষ স্বভাবগতভাবে সামাজিক।সুখদুঃখের ভাগাভাগি
করার জন্য একজন সঙ্গী থাকলে স্থিরতা এবং নিরাপত্তা তৈরী হয়।দুজন মানুষে আয় সঞ্চয় ও পরিকল্পনা অর্থনৈতিক ভিক্তি শক্ত হয় এর ফলে ভবিষৎ পরিকল্পনা সহজ হয়।বিবাহ সন্তান জন্মদানের ম্যধ্মে স্থিতিশীল পরিবেশে তৈরী হয়।ইহার ফলে সন্তানের মানসিক বিকাশ,সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক শিক্ষা এইসব মানুষের পরিবার থেকেই আসে।

হিন্দু সমাজে বিয়ের আইন ও বিচ্ছেদ :

যেমন-স্বামী বা স্ত্রী উভয়ের পরকিয়া , উভয়ের নির্যাতন,মানসিক রোগী ,সংক্রামিক যৌন রোগ ,মানসিক রোগী। মানুষিক রোগ থেকেই সমাজে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় ইত্যাদি কারনে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থাকে। আর মানসিক অশান্তির জন্য বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদবন করা হয়।

জন্ম তারিখ অনুযায়ী মুসলিম সমাজে বিবাহঃ

ইসলামি শরিয়াা আইন অনুযায়ী মুসলিম সমাজে বিবাহ সম্পুর্ন হয় । ইসলামি শরীয়া জন্ম তারিখের কোন মুল্য দেওয়া হয় না । মুসলিম সমাজে জন্ম তারিখ দেখে বিয়ে হয় তবে সেটা হয় বয়স নির্ধারনের জন্য । এটা একটি আইগত ভিক্তি । কারন হিসাবে সরকারী আইন অনুযায়ি ছেলের বয়স হতে হবে ২১ এবং মেয়েদের বয়স হতে হবে ১৮ বৎসর ।তবে শরীয়া আইন অনুযায়ী ছেলে বা মেয়ে বালেগা হলেই বিবাহ দিতে হবে ।




মুসলিম সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ আইনঃ


মূসলিম সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ একটি সামাজিক ও ধর্মীয়  বিষয় ।ইসলাম সমাজে বিবাহ যেমন একটি পবিত্র বন্ধন তেমনি বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক প্রথা একটি ধর্মীয় অপছন্দীয় একটি  বিষয় ।স্বামী বা স্ত্রী উভয়ে্র মধে বোঝপড়া না থাকার কারনে পারস্পারিক শ্রদ্ধা ভালবাসা হারিয়ে যায় । আর তখনি বিবাহ বিচ্ছেদ মত ঘটনা ঘটে থাকে।
নবী করিম (সাঃ) বলেছেন - "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বৈধ কাজ হলো তালাক।"ইসলাম তালেকের অনুমতি দিলেই সেটাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে ।তবে তালাকের আগে পারিবারিক মিমাংসা ও ধৈর্য ধারন করা উচিত ।.

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি কোন থেকে একটি পর্যালোচনা :


আধুনিক বিজ্ঞানিকেরা মনে করে জন্ম তারিখ দেখে বিবাহ সম্পুর্ন করতে হবে এটার কোন ব্যাখা নাই । এটা সম্পুর্ন নির্ভর করে মানুষের ইচ্ছার উপর ।বিবাহ সময় নির্ধারন করা মানুষিক , সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থানের উপর।তবু আমাদের সমাজের কিছু কিছু মানুষ আত্নার শান্তির জন্য অনেকটি জ্যোতিষির উপর গভীর ভাবে বিশ্বাস করে থকে ।

জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিয়ে, একাট সামাজিক পর্যালোচনা ঃ


সমাজে বিয়ে একটি  পারস্পারিক সম্পর্ক ও স্বীর্কতির বিষয়। ইহাতে সমাজিকভিক্তি গড়ে উঠে ।জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিবাহ কবে হবে , এই প্রশ্নটি অনেকের মনে কৌতুহল সৃষ্টি করে আর এই কৌতুহল থেকে তরুন তরুনিরা জানতে চাই ,কখন তাদের জীবনের বিশেষ মানুষটি আসবে ।নারী পূরুষ সহবাস্থান করার একমাত্র মাধ্যম হলো বিয়ে ।
এই জগতে যত মানব জাতি আছে সকল জাতি নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ীবিবাহ হয়ে থাকে । তবে জন্ম তারিখ দেখে বিয়ে একটি সামাজিক কুসংস্কার । তবে বিয়ে যেভাবেই হোক না কেন নারী পুরুষের মধ্যে পরস্পারিক বোঝাপড়া ,ভালবাসা গড়ে উঠলে সেখানে জন্ম তারিখ দেখে বিয়ের কোন প্রশ্নয় আসে না ।

বিয়ের উপকারিতা ঃ


বিয়ে একজন বিবাহিত পুরুষ ও নারীকে মানসিক প্রসান্তি এনে দেয় । ফলে নারী পুরুষ জীবনে আনন্দ উপভোগ করে ।জীবনের কঠিন সময়ে একজন জীবন সঙ্গগী থাকলে মানসিক সমর্থন পাওয়া যায় । ভবিষৎ বংশধর রক্ষার একমাত্র মাধ্যম হলো বিয়ে । তাছাড়া বিয়ের মাধ্যমে বৈধ সন্তান উৎপাদন হয় ।এর ফলে পিতার - মাতার  ভবিষৎ সামাজিক নিরপত্তা বজায় থাকে। 

বিয়ের অপকারিতাঃ

বিয়ের যেমন উপকারিতা আছে তেমনি অপকারিতা আছে । একজন পুরুষ বিয়ের পর তার স্বাধীনতা খর্ব হয় । তার জীবনের সময় , অর্থ,সিদ্ধানত ও জীবনধারা পরিবর্তন হয়ে যায় ।এর ফলে মানসিক চাপ বেড়ে যায় ।তবে বেকার জীবনে বিয়ে তীব্র প্রভাব ফেলে ।

শেষ কথাঃ

হিন্দু সমাজে মনে করে জন্মের সময় গ্রহ - নক্ষত্র তার ভবিষৎও স্বভাবের উপর নির্ভর করে ।তাই বিয়ের আগে অনেক গুলো ধাপ অনুসরন করে তারা বিয়ের দিন নির্ধারন করে থাকে ।তবে  জন্ম তারিখ দেখে বা না দেখে যেইভাবে বিবাহ হোক না কেন একজন নারী বা পুরুষ বিয়ে করার আগে মানবিক ও চারিত্রিকে প্রধান্য দেওয়া উচিত ।


জন্ম তারিখ অনুযাসয়ী বিবাহ একটি মানসিক বা সমাজিক সিদ্ধান্ত হতে পারে কিন্তু আইন গত ভাবে এর কোন বাধা নাই যে কোন সময় হতে পারে ।সমাজের কেঊ যদি মনে করে জন্ম তারিখ দেখে বিবাহ করব, তবে সেটা তার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত ।







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪

Md. Abdus Salam
Md. Abdus Salam
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও রাফিদ আইটির অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।